ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

তারেক রহমানের সংবর্ধনা মঞ্চ প্রস্তুত, থাকছে ৯০০ মাইক, সারা দেশ থেকে আসছে কর্মী-সমর্থক

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 220
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশের মাটিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকলে, তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শেষ সময়ে এসে সেই উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে। নেতাকে বরণ করতে এক–দুই দিন আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

বুধবারও বিভিন্ন রুটে ঢাকামুখী যানবাহনে নেতাকর্মীদের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ—সবখানেই একই চিত্র। নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দলের পক্ষ থেকে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন বুকিং দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিএনপির পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে পূর্বাচলমুখী সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের একটি বিশাল মঞ্চ।

মঞ্চের মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট এলাকা ও কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত স্থাপন করা হবে ৯০০টি মাইক। এ উপলক্ষে সারা দেশেই নান্দনিক ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো। সংবর্ধনাস্থলের আশপাশে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নেতাকে বরণের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন তার অনুসারীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আশা করছেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সারা দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলা শাখাসহ তৃণমূল পর্যায় থেকেই নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘‘দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনই রাজপথ থেকে সফল হয়েছে। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। ঠিক ২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান। অর্থাৎ দেশের পক্ষে প্রতিটি আন্দোলনেই নেতৃত্বের আসনে ছিল জিয়া পরিবার। সেই পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে দেশের মাটিতে আসছেন। সেটা তো আমাদের নেতাকর্মীদের আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই তাকে বরণ করতে আমাদের সর্বস্তরের জনশক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসায় নেতাকে বরণ করতে আমরা উন্মুখ। সে অনুযায়ী ৩০০ ফুট এলাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্পটকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।’’

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে নির্মাণাধীন মঞ্চের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুট আয়তনের এই মঞ্চটি কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে পূর্বাচলমুখী সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। মঞ্চের মূল কাঠামো নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন। সন্ধ্যার মধ্যে সাজসজ্জার কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে। ব্যানারে লেখা থাকবে— তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে নির্মাণাধীন মঞ্চ পরিদর্শন করেন তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

এছাড়া বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট ও কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় থাকবে ৯০০টি মাইক।

তারেক রহমানের সংবর্ধনায় অংশ নিতে গত দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। অনেকেই আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার সকাল থেকেই গাবতলী, সায়দাবাদসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রেল ও নৌপথেও একই অবস্থা। অনেকে ব্যানার-ফেস্টুনসহ ঢাকায় এসেছেন।

কুমিল্লা থেকে আসা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহছান উল্লাহ বলেন, জেলা থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ নেতাকর্মী ঢাকায় আসবেন। তিনি আগেভাগেই নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে আসা বিএনপিকর্মী আলী আজগর বলেন, নেতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেই তিনি আগেই ঢাকায় এসেছেন। তার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। রুটগুলো হলো— কক্সবাজার-ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা, গাজীপুরের জয়দেবপুর-ঢাকা সেনানিবাস, পঞ্চগড়-ঢাকা, খুলনা-ঢাকা, পাবনার চাটমোহর-ঢাকা সেনানিবাস, রাজশাহী-ঢাকা ও যশোর-ঢাকা।

কর্মসূচি শেষে এসব ট্রেন নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় এসে পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবে।

বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য ‘নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উৎসবের আবহ

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সারা দেশেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে পূর্বাচল এলাকায় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। অনুষ্ঠান শুরুর আগের দিন থেকেই আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। অনেকের হাতে দেখা যাচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের ছবি। ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে দলীয় পতাকা। নেতাকে বরণের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন তার অনুসারীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

তারেক রহমানের সংবর্ধনা মঞ্চ প্রস্তুত, থাকছে ৯০০ মাইক, সারা দেশ থেকে আসছে কর্মী-সমর্থক

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশের মাটিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকলে, তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শেষ সময়ে এসে সেই উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে। নেতাকে বরণ করতে এক–দুই দিন আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

বুধবারও বিভিন্ন রুটে ঢাকামুখী যানবাহনে নেতাকর্মীদের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ—সবখানেই একই চিত্র। নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দলের পক্ষ থেকে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন বুকিং দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিএনপির পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে পূর্বাচলমুখী সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের একটি বিশাল মঞ্চ।

মঞ্চের মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট এলাকা ও কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত স্থাপন করা হবে ৯০০টি মাইক। এ উপলক্ষে সারা দেশেই নান্দনিক ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো। সংবর্ধনাস্থলের আশপাশে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নেতাকে বরণের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন তার অনুসারীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আশা করছেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সারা দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলা শাখাসহ তৃণমূল পর্যায় থেকেই নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘‘দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনই রাজপথ থেকে সফল হয়েছে। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। ঠিক ২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান। অর্থাৎ দেশের পক্ষে প্রতিটি আন্দোলনেই নেতৃত্বের আসনে ছিল জিয়া পরিবার। সেই পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে দেশের মাটিতে আসছেন। সেটা তো আমাদের নেতাকর্মীদের আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই তাকে বরণ করতে আমাদের সর্বস্তরের জনশক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসায় নেতাকে বরণ করতে আমরা উন্মুখ। সে অনুযায়ী ৩০০ ফুট এলাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্পটকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।’’

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে নির্মাণাধীন মঞ্চের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুট আয়তনের এই মঞ্চটি কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে পূর্বাচলমুখী সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। মঞ্চের মূল কাঠামো নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন। সন্ধ্যার মধ্যে সাজসজ্জার কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে। ব্যানারে লেখা থাকবে— তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে নির্মাণাধীন মঞ্চ পরিদর্শন করেন তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

এছাড়া বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট ও কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় থাকবে ৯০০টি মাইক।

তারেক রহমানের সংবর্ধনায় অংশ নিতে গত দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। অনেকেই আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার সকাল থেকেই গাবতলী, সায়দাবাদসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রেল ও নৌপথেও একই অবস্থা। অনেকে ব্যানার-ফেস্টুনসহ ঢাকায় এসেছেন।

কুমিল্লা থেকে আসা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহছান উল্লাহ বলেন, জেলা থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ নেতাকর্মী ঢাকায় আসবেন। তিনি আগেভাগেই নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে আসা বিএনপিকর্মী আলী আজগর বলেন, নেতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেই তিনি আগেই ঢাকায় এসেছেন। তার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। রুটগুলো হলো— কক্সবাজার-ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা, গাজীপুরের জয়দেবপুর-ঢাকা সেনানিবাস, পঞ্চগড়-ঢাকা, খুলনা-ঢাকা, পাবনার চাটমোহর-ঢাকা সেনানিবাস, রাজশাহী-ঢাকা ও যশোর-ঢাকা।

কর্মসূচি শেষে এসব ট্রেন নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় এসে পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবে।

বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য ‘নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উৎসবের আবহ

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সারা দেশেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে পূর্বাচল এলাকায় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। অনুষ্ঠান শুরুর আগের দিন থেকেই আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। অনেকের হাতে দেখা যাচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের ছবি। ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে দলীয় পতাকা। নেতাকে বরণের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন তার অনুসারীরা।