খালেদা জিয়া থেকে কেউ আঘাত পেলে ক্ষমা চাইলেন তারেক
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়াউর রহমানে পাশে চিরনিদ্রায় খালেদা
- আপডেট সময় : ০৭:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 116
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এর আগে, জাতীয় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা হয়। এসময় ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। পরে সংসদ ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় পতাকায় মোড়া লাশবাহী গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সমাধির কাছাকাছি নেওয়ার পর খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে যান সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।
দাফনের প্রক্রিয়া চলার সময় তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোটভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী শামিলা রহমান, তার ছোট মেয়ে জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দাঁড়িয়ে শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
দোয়া ও ক্ষমা চাইলেন তারেক
বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তাঁর বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা তিনটার পর খালেদা জিয়ার জানাজা শুরুর আগে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান তারেক রহমান।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা হয়। জানাজায় অংশ নিতে আসা বিপুল মানুষের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যাতে ওনাকে (খালেদা জিয়া) বেহেশত দান করেন।’
তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে তাঁরা যেন তাঁর (তারেক রহমান) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে তাঁর কোনো ব্যবহারে, কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
বেলা তিনটা তিন মিনিটে জানাজা শুরু হয়ে তিনটা পাঁচ মিনিটে শেষ হয়। জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
এর আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে জানাজা কার্যক্রম সঞ্চালনা শুরু করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাফল্য ও নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দল–মতনির্বিশেষে সবার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সম্মান নিয়ে খালেদা জিয়া বিদায় নিলেন। তিনি রেখে গেলেন অনন্য উদাহরণ।
খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।



















