অবশেষে বাবার কবরের পাশে তারেক, চোখ মুছলেন
- আপডেট সময় : ০৮:২৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 63
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বাবা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেওয়ার পর তিনি সেখানে কিছু সময় একান্তে কাটান। এ সময় তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।
শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে তিনি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন।
এর মাধ্যমে ১৯ বছর পর বিএনপির নেতা হিসেবে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। এর আগে ২০০৬ সালে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
একান্তে কিছুক্ষণ
এরপর তারেক রহমান কিছু সময় বাবার কবরের সামনে একা দাঁড়িয়ে সুরা ফাতেহা ও দরুদ পাঠ করেন। পরে তিনি একাই মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত শেষে রুমাল দিয়ে নিজের চোখ মুছতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকে।
বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে তিনি বাসে উঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
‘জনগণ উজ্জীবিত হয়েছে’
শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দেশের মানুষ খুশি হয়েছে, জনগণের মধ্যে মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, জনগণ উজ্জীবিত হয়েছে।”
তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে আসবেন—এ তথ্য আগে থেকেই জানা থাকায় সকাল ১০টা থেকেই সেখানে নেতাকর্মীদের ভিড় জমতে থাকে। জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থল ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিন বেলা পৌনে ২টা ৫২ মিনিটে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তারেক রহমানের গাড়িবহর জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। আগের দিন বিমানবন্দর থেকে আসার সময় যে বুলেটপ্রুফ বাস ব্যবহার করেছিলেন, একই বাসে তিনি শেরেবাংলা নগরে যান।
লাল-সবুজ রঙে সাজানো বাসের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। বাস ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের বিপুল ভিড়ের কারণে আট কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা।
বেলা ৪টা ৩৬ মিনিটে বাস থেকে নেমে তিনি হেঁটে সমাধিস্থলের দিকে যান। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।



















