৭ মার্চের ভাষণ বাদ, যুক্ত হলো জুলাই আন্দোলন
- আপডেট সময় : ১১:৩১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 104
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবই ‘সাহিত্য কণিকা’ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে বইটিতে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন। গদ্য সাহিত্যে এই আন্দোলনকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি ভাষণের সাহিত্যিক মূল্য বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ গদ্য অংশে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষেও পাঠ্যবইয়ে এই ভাষণ রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে তা আর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
জানা গেছে, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম অনুসারে প্রস্তুত করা আগের পাঠ্যবইয়ে অষ্টম শ্রেণির গদ্য অংশে ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ’ শিরোনামে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর একই ভাষণ অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে গদ্য অংশে যুক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস অংশে পরিবর্তন আনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ের গদ্য অংশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সামান্য অংশ যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ থাকলেও নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ব্যবহার করা হয়নি।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বই থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হলেও অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ‘৭ মার্চের ভাষণ’ শিরোনামে ভাষণের মাত্র তিনটি লাইন রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলা বইয়ের গদ্য সাহিত্য অংশে যুক্ত করা হয়েছে ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন’। ‘গণঅভ্যুত্থান’ শিরোনামের এই গদ্য রচনায় ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর একাংশে বলা হয়েছে,
‘আগের দুই অভ্যুত্থানের সঙ্গে এবারের অভ্যুত্থানের একটা বড় প্রার্থক্য হচ্ছে— আগের দুবার শিক্ষার্থীরা প্রধান ভূমিকা রাখলেও আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে এরকম কোনও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলন পরিচালনা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সব ধরনের সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ যুক্ত হয়।’
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ছয় দফার আলোচনা থাকলেও বঙ্গবন্ধুর নাম রাখা হয়নি। একইভাবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস থাকলেও শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন— সে বিষয়টি পরিমার্জিত পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বই থেকে ‘জাতির পিতা’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছেন, সেই ইতিহাস এবং তাঁর নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে এবার ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস থাকলেও সেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন,
‘‘যখন পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হয় তখন আমি ছিলাম না। আমার আসার আগেই (চেয়ারম্যান হওয়ার আগে) পরিমার্জন শেষ হয়ে গেছে। পরিমার্জনের বিষয়ে প্রধান সম্পদাকের কাছ থেকে জানতে পারেন।’’
এনসিটিবির প্রধান সম্পদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর পাঠ্যবই পরিমার্জন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনে ৫৭ সদস্যের একটি এডিটরিয়াল প্যানেল কাজ করেছে। পরিমার্জন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি)।


















