৬২টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ৭২ জন
- আপডেট সময় : ১২:১৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 33
সারা দেশে অন্তত ৭০টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ভেতর থেকে উঠে আসা বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলটির আনুষ্ঠানিক মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আর বাকি আট আসনে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা। ২৯২টি আসনের মধ্যে প্রথমে আইনি জটিলতায় তিনটি আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ছিটকে পড়েন। তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পরবর্তীকালে চূড়ান্ত আপিলে আরও দুজন মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। সে হিসাবে বর্তমানে ২৯১টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বিপরীতে মনোনয়ন না পাওয়া অনেক নেতা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন।
বিএনপির সমর্থন পাওয়া কমপক্ষে ৬২টি আসনে এখনও ৭২ বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে এক ধরনের অস্বস্তিতে রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। দলীয় হাইকমান্ডের দফায় দফায় বৈঠকের পরও তাদের সরানো যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে ৭১ বিদ্রোহীকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বহিষ্কার করেছে দলটি। সাংগঠনিক শাস্তির খড়গ মাথায় নিয়েই তারা রয়েছেন ভোটযুদ্ধে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি) ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী। তার বিপক্ষে স্বতন্ত্র হয়ে লড়ছেন দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু)। দলীয় নির্দেশনা না মানায় ইতোমধ্যে তিনি বহিষ্কার হয়েছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মীর কাসেমের ছেলে ব্যারিস্টার আরমান। এই প্রার্থী নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন।
ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে এখনও রয়ে গেছেন বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এছাড়া রাজবাড়ী-২, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, কিশোরগঞ্জ-৫, মুন্সীগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল-৩, টাঙ্গাইল-৫, মানিকগঞ্জ-১, মানিকগঞ্জ-৩ ও গোপালগঞ্জ-২ আসনে দলের বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপির সাবেক নেতারা।
নাটোর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তার বিরুদ্ধে ডা. ইয়াসিন আরশাদ রাজন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে ডা. আরশাদ পুতুলের আপন বড় ভাই। বিদ্রোহী এই দুজনকেই দল বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে বোনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরে গেছেন ভাই আরশাদ। কিন্তু টিপু এখনও রয়ে গেছেন।
রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসফা খায়রুল হক শিমুল। নাটোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে দাউদার মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রংপুর বিভাগের নীলফামারী-২, দিনাজপুর-২ ও গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আট আসনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন শরিক দলের ৮ নেতা। এর মধ্যে পাঁচটি আসনেই রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।
বিএনপি সমর্থিত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ছাড় পেয়েছে ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। চারটি আসনে ছাড় পেলেও তিনটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারা এখনও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন জমিয়ত সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। তার প্রতিপক্ষ হিসেবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা দলটির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছেন। একই দল থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন জমিয়ত নেতা মনির হোসেন কাসেমী। তিনি বিএনপির একটি অংশের সমর্থন পেয়েছেন। তবে এখনও মাঠে রয়েছেন বিএনপির দুই বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন।
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। তবে এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। দল থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঢাকা-১২ আসনে জোট শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। তবে এখানে যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। ইতোমধ্যে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন। সেখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এলডিপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করা রেদোয়ান আহমেদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন বলেন, “বিগত ১৭ বছর আমরা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, আমরা ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবো। কিন্তু আমরা পাইনি। তাই তৃণমূলের চাপে পড়ে প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।”


















