ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন পোস্টাল ব্যালট কয়টার মধ্যে পাঠাতে হবে জানালো ইসি নির্বাচনে অনিয়ম ছাড়া জামায়াতের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শেষ, জায়গা পেল স্কটল্যান্ড ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইছেন বিএনপির পক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি কতটা? নির্বাচনী প্রচারে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী, বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু ‘একটা দল ভোট দখলের চেষ্টা করছে’, সতর্ক থাকতে বললেন তারেক তারেক রহমানের জনসভায় শাবিপ্রবি ভিসি–প্রোভিসির উপস্থিতি, ছবি–ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক

২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার বন্ধ থাকল প্রথম আলো, কর্মীদের মানববন্ধন

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 148
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন পত্রিকাটির কর্মীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে কাওরান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এই হামলার উদ্দেশ্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা।

মানববন্ধনে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা, যা সরাসরি সাংবাদিকদের জীবনের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার সময় কর্মীদের নিউজরুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়, যার ফলে পত্রিকার প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, প্রথম আলোর ২৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম পত্রিকাটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

সাজ্জাদ শরীফ আরও বলেন, এই হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমত এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি বলেন, এটি শুধু প্রথম আলোর ওপর হামলা নয়; দ্য ডেইলি স্টারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন।

তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের পাশে দাঁড়াতে নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে প্রথম আলোর কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর চালায় এবং প্রথম আলো ও ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মানববন্ধনে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।

এদিকে মানববন্ধন চলাকালে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে আবারও কিছু ব্যক্তি জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা প্রথম আলোর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বৃহস্পতিবারের হামলাকে সমর্থন জানিয়ে পত্রিকার সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বলে আখ্যা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার বন্ধ থাকল প্রথম আলো, কর্মীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৭:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন পত্রিকাটির কর্মীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে কাওরান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এই হামলার উদ্দেশ্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা।

মানববন্ধনে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা, যা সরাসরি সাংবাদিকদের জীবনের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার সময় কর্মীদের নিউজরুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়, যার ফলে পত্রিকার প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, প্রথম আলোর ২৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম পত্রিকাটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

সাজ্জাদ শরীফ আরও বলেন, এই হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমত এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি বলেন, এটি শুধু প্রথম আলোর ওপর হামলা নয়; দ্য ডেইলি স্টারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন।

তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের পাশে দাঁড়াতে নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে প্রথম আলোর কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর চালায় এবং প্রথম আলো ও ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মানববন্ধনে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।

এদিকে মানববন্ধন চলাকালে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে আবারও কিছু ব্যক্তি জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা প্রথম আলোর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বৃহস্পতিবারের হামলাকে সমর্থন জানিয়ে পত্রিকার সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বলে আখ্যা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।