ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইছেন বিএনপির পক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি কতটা? নির্বাচনী প্রচারে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী, বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু ‘একটা দল ভোট দখলের চেষ্টা করছে’, সতর্ক থাকতে বললেন তারেক তারেক রহমানের জনসভায় শাবিপ্রবি ভিসি–প্রোভিসির উপস্থিতি, ছবি–ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক সিলেটে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তারেক : ‘তাদের আমরা স্বাধীনতার সময় দেখেছি’ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ : ভারত না যেতে অনড় বাংলাদেশ সিলেটে বৃহস্পতিবার কোথায় কোন কর্মসূচি তারেক রহমানের সিলেট ৬ : মনোনয়ন বঞ্চিতদের এক মঞ্চে নিয়ে এলেন এমরান চৌধুরী

হাউজিং জালিয়াতির দায়ে বেথনাল গ্রীনের এক ব্যক্তির জেল দন্ড

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৯
  • / 2214
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একজন মৃত ব্যক্তির ভাইপো সেজে কাউন্সিলের ভাড়াটেস্বত্ব লাভে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের ‘স্থগিত জেল দন্ডে’ দন্ডিত করেছে আদালত। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং ফ্রড টিমের প্রচেষ্ঠায় এই জালিয়াতমূলক তৎপরতা ধরা পড়ে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়।

শফিকুর রহমান নামের বেথনাল গ্রীনের এই বাসিন্দাকে ১ আগষ্ট স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে জেলদন্ড ছাড়াও ১৫০ ঘন্টা বিনা মজুরিতে কাজ করার ও ৪ মাসের কারফিউ আদেশ দেয়া হয়। এছাড়া মামলার খরচ বাবদ ৬ হাজার পাউন্ড প্রদানেরও নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস হোমস এর একজন ভাড়াটে মারা যাওয়ার পর এই জালিয়াতির ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। নিজেকে উক্ত মৃত ব্যক্তির ভাতিজা হিসেবে দাবি করে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান কাউন্সিলের টেনেন্সি বা ভাড়াটেস্বত্ব পাওয়ার জন্য ২০১৬ সালের জুন মাসে আবেদন করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন যে, হোয়াইটচ্যাপলের হেডল্যাম স্ট্রিটে অবস্থিত এক বেডরুমের কাউন্সিল ফ্ল্যাটে তিনি তার চাচার (যিনি মারা গেছেন) সাথে বসবাস করতেন। আবেদনপত্রের সপক্ষে মিঃ রহমান অনেকগুলো ডকুমেন্ট বা দলিলাদি দাখিল করেন। যাতে এটা দেখানো হয় যে উক্ত প্রোপার্টিতে তিনি অনেক বছর ধরেই বসবাস করছেন। ‘প্রুফ অব এড্রেস’ হিসেবে দাখিলকৃত ডকুমেন্টগুলোর মধ্যে ছিলো গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল, কাউন্সিল ট্যাক্স বিল, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট, কার ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট, এইচএম কাস্টমস এন্ড রেভিনিউ বিভাগের চিঠি, বার্থ সার্টিফিকেট, একাউন্ট্যান্ট এর চিঠি, হাউজিং বেনিফিটের জন্য করা আবেদনপত্র, ফ্রি স্কুল মিলস ও কাউন্সিল ট্যাক্স মওকুফের চিঠি।

কিছু কিছু ডকুমেন্টের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলে কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ হাউজিং ফ্রড টিম আবেদনপত্রটির ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে। অফিসাররা গ্যাস ও ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানী, ইন্স্যূরেন্স এবং একাউন্টেন্সি কোম্পানীসমূহ থেকে প্রয়োজনীয় প্রমানাদি সংগ্রহ করার পাশাপাশি কাউন্সিলের নিজস্ব তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত রেকর্ড পর্যালোচনা করে এটা নিশ্চিত হয় যে, দাখিলকৃত অনেকগুলো ডকুমেন্টই জাল বা বানানো।এর পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির পরিচর্যায় নিয়োজিত মূল কেয়ার ওয়ার্কার এই মর্মে বিবৃতি দেন যে, তিনি কখনোই পরিবারের কোন সদস্যকে দেখতে পাননি। বছরে মাত্র দুই বার তার স্বজনরা তাকে দেখতে আসতেন। এমন কি ঐ ব্যক্তি উক্ত কেয়ারারকে এ-ও বলেছিলেন যে, তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই স্কটল্যান্ডে বসবাস করেন।

উক্ত ব্যক্তির একজন বন্ধু ও প্রতিবেশি তদন্তকারীদের বলেন যে, ‘তাঁর স্ত্রী মারার যাওয়ার পর তিনি তাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি এটা নিশ্চিত করেন যে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উক্ত ভাড়াটে এই প্রোপার্টিতে একা বাস করতেন এবং সোশ্যাল সার্ভিসেস তার পরিচর্যায় নিয়োজিত ছিলো। তিনি মিঃ রহমানকে চেনেন না এবং তার বন্ধু জীবদ্দশায় তাদের আলাপ আলোচনায় কখনোই মিঃ রহমানের নাম উল্লেখ করেন নি।’ গত জুলাই মাসে আদালতে শুনানিকালে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহের ব্যাপারে দোষ স্বীকার করে নেন।

এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র, জন বিগস বলেন, হাউজিং জালিয়াতি হচ্ছে অত্যন্ত স্বার্থপর একটি কাজ এবং এর ফলে তারাই বাড়ি ঘর লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন, যাদের সত্যিকার অর্থেই তা প্রয়োজন। সন্দেহজনক কার্যক্রম ধরতে আমাদের হাউজিং ফ্রড টিম কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং কাউন্সিল হিসেবে আমরা সব সময়ই অবৈধ তৎপরতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হইনা।

ডেপুটি মেয়র অব টাওয়ার হ্যামলেটস এবং কেবিনেট মেম্বার ফর হাউজিং, কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ও জটিল এই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, আমি তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের হাউজিং তালিকায় ২০ হাজারেরও বেশি লোক অপেক্ষায় থাকায়, যেকোন প্রোপার্টি উদ্ধার হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বারার যে সকল বাসিন্দার সবচেয়ে বেশি দরকার, তারা যাতে ঘর পায় তা নিশ্চিত করতে কাউন্সিল হিসেবে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি।

কোন কাউন্সিল প্রোপার্টি অবৈধভাবে সাবলেট দেয়া হয়েছে কিংবা হাউজিং সংক্রান্ত কোন জালিয়াতির ঘটনা কারো নজরে পড়লে তা ০৮০০ ৫২৮ ০২৯৪ নম্বরে ফোন করে হাউজিং ফ্রড টীমকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হাউজিং জালিয়াতির দায়ে বেথনাল গ্রীনের এক ব্যক্তির জেল দন্ড

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৯

একজন মৃত ব্যক্তির ভাইপো সেজে কাউন্সিলের ভাড়াটেস্বত্ব লাভে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের ‘স্থগিত জেল দন্ডে’ দন্ডিত করেছে আদালত। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং ফ্রড টিমের প্রচেষ্ঠায় এই জালিয়াতমূলক তৎপরতা ধরা পড়ে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়।

শফিকুর রহমান নামের বেথনাল গ্রীনের এই বাসিন্দাকে ১ আগষ্ট স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে জেলদন্ড ছাড়াও ১৫০ ঘন্টা বিনা মজুরিতে কাজ করার ও ৪ মাসের কারফিউ আদেশ দেয়া হয়। এছাড়া মামলার খরচ বাবদ ৬ হাজার পাউন্ড প্রদানেরও নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস হোমস এর একজন ভাড়াটে মারা যাওয়ার পর এই জালিয়াতির ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। নিজেকে উক্ত মৃত ব্যক্তির ভাতিজা হিসেবে দাবি করে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান কাউন্সিলের টেনেন্সি বা ভাড়াটেস্বত্ব পাওয়ার জন্য ২০১৬ সালের জুন মাসে আবেদন করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন যে, হোয়াইটচ্যাপলের হেডল্যাম স্ট্রিটে অবস্থিত এক বেডরুমের কাউন্সিল ফ্ল্যাটে তিনি তার চাচার (যিনি মারা গেছেন) সাথে বসবাস করতেন। আবেদনপত্রের সপক্ষে মিঃ রহমান অনেকগুলো ডকুমেন্ট বা দলিলাদি দাখিল করেন। যাতে এটা দেখানো হয় যে উক্ত প্রোপার্টিতে তিনি অনেক বছর ধরেই বসবাস করছেন। ‘প্রুফ অব এড্রেস’ হিসেবে দাখিলকৃত ডকুমেন্টগুলোর মধ্যে ছিলো গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল, কাউন্সিল ট্যাক্স বিল, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট, কার ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট, এইচএম কাস্টমস এন্ড রেভিনিউ বিভাগের চিঠি, বার্থ সার্টিফিকেট, একাউন্ট্যান্ট এর চিঠি, হাউজিং বেনিফিটের জন্য করা আবেদনপত্র, ফ্রি স্কুল মিলস ও কাউন্সিল ট্যাক্স মওকুফের চিঠি।

কিছু কিছু ডকুমেন্টের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলে কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ হাউজিং ফ্রড টিম আবেদনপত্রটির ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে। অফিসাররা গ্যাস ও ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানী, ইন্স্যূরেন্স এবং একাউন্টেন্সি কোম্পানীসমূহ থেকে প্রয়োজনীয় প্রমানাদি সংগ্রহ করার পাশাপাশি কাউন্সিলের নিজস্ব তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত রেকর্ড পর্যালোচনা করে এটা নিশ্চিত হয় যে, দাখিলকৃত অনেকগুলো ডকুমেন্টই জাল বা বানানো।এর পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির পরিচর্যায় নিয়োজিত মূল কেয়ার ওয়ার্কার এই মর্মে বিবৃতি দেন যে, তিনি কখনোই পরিবারের কোন সদস্যকে দেখতে পাননি। বছরে মাত্র দুই বার তার স্বজনরা তাকে দেখতে আসতেন। এমন কি ঐ ব্যক্তি উক্ত কেয়ারারকে এ-ও বলেছিলেন যে, তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই স্কটল্যান্ডে বসবাস করেন।

উক্ত ব্যক্তির একজন বন্ধু ও প্রতিবেশি তদন্তকারীদের বলেন যে, ‘তাঁর স্ত্রী মারার যাওয়ার পর তিনি তাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি এটা নিশ্চিত করেন যে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উক্ত ভাড়াটে এই প্রোপার্টিতে একা বাস করতেন এবং সোশ্যাল সার্ভিসেস তার পরিচর্যায় নিয়োজিত ছিলো। তিনি মিঃ রহমানকে চেনেন না এবং তার বন্ধু জীবদ্দশায় তাদের আলাপ আলোচনায় কখনোই মিঃ রহমানের নাম উল্লেখ করেন নি।’ গত জুলাই মাসে আদালতে শুনানিকালে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহের ব্যাপারে দোষ স্বীকার করে নেন।

এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র, জন বিগস বলেন, হাউজিং জালিয়াতি হচ্ছে অত্যন্ত স্বার্থপর একটি কাজ এবং এর ফলে তারাই বাড়ি ঘর লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন, যাদের সত্যিকার অর্থেই তা প্রয়োজন। সন্দেহজনক কার্যক্রম ধরতে আমাদের হাউজিং ফ্রড টিম কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং কাউন্সিল হিসেবে আমরা সব সময়ই অবৈধ তৎপরতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হইনা।

ডেপুটি মেয়র অব টাওয়ার হ্যামলেটস এবং কেবিনেট মেম্বার ফর হাউজিং, কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ও জটিল এই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, আমি তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের হাউজিং তালিকায় ২০ হাজারেরও বেশি লোক অপেক্ষায় থাকায়, যেকোন প্রোপার্টি উদ্ধার হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বারার যে সকল বাসিন্দার সবচেয়ে বেশি দরকার, তারা যাতে ঘর পায় তা নিশ্চিত করতে কাউন্সিল হিসেবে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি।

কোন কাউন্সিল প্রোপার্টি অবৈধভাবে সাবলেট দেয়া হয়েছে কিংবা হাউজিং সংক্রান্ত কোন জালিয়াতির ঘটনা কারো নজরে পড়লে তা ০৮০০ ৫২৮ ০২৯৪ নম্বরে ফোন করে হাউজিং ফ্রড টীমকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।