ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুস্তাফিজ শফি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন  ‘নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে’ জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট: আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রইল না হাসনাত আবদুল্লাহর, ঋণখেলাপিদের নিয়ে যা বললেন ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল: ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’ জামায়াত আমিরের এক্স ‘পোস্ট’ ঘিরে কেন এত আলোচনা টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবে ব্রিটিশ নাগরিকরা : যুক্তরাজ্য-চীন ১০ চুক্তি ভোটের আগেই ৪ জনের প্রাণহানি, সারাদেশে ১৪৪ সহিংসতা গণভোট নিয়ে যত প্রশ্ন

সিলেটে রায়হান হত্যা : স্ত্রীর মামলা, বন্দর ফাঁড়ির চার পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০
  • / 1003
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশি ‘নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। একই সাথে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

রায়হানের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুলল্লাহ জানান, রায়হান নগরীর রিকাবীবাজারে স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গফ্‌ফারের চেম্বারে চাকরি করতেন। রায়হান বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে কর্মস্থল থেকে রায়হানের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পান। পরে ভোর রাত ৪টার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায়, তাকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর রায়হানের মা তার চাচা হাবিবুল্লাহকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফজরের নামাজের পরপরই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। এ সময় সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে অবস্থানরত এক পুলিশ সদস্য হাবিবুল্লাহকে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা, আপনি ৫ হাজার এনেছেন কেন, এখন চলে যান, রায়হান ঘুমাচ্ছে।

এছাড়া রায়হানকে যে কর্মকর্তা ধরে এনেছেন তিনিও এখন ফাঁড়িতে নেই। সকাল ৯টার দিকে আসবেন।’ তার কথামতো হাবিবুল্লাহ সকাল ৯টার সময় আবার ফাঁড়িতে যান। এ সময় ফাঁড়িতে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তখন হাবিবুল্লাহ দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে মর্গে রায়হানের লাশ পান। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সিলেটে রায়হান হত্যা : স্ত্রীর মামলা, বন্দর ফাঁড়ির চার পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০

বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশি ‘নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। একই সাথে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

রায়হানের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুলল্লাহ জানান, রায়হান নগরীর রিকাবীবাজারে স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গফ্‌ফারের চেম্বারে চাকরি করতেন। রায়হান বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে কর্মস্থল থেকে রায়হানের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পান। পরে ভোর রাত ৪টার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায়, তাকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর রায়হানের মা তার চাচা হাবিবুল্লাহকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফজরের নামাজের পরপরই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। এ সময় সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে অবস্থানরত এক পুলিশ সদস্য হাবিবুল্লাহকে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা, আপনি ৫ হাজার এনেছেন কেন, এখন চলে যান, রায়হান ঘুমাচ্ছে।

এছাড়া রায়হানকে যে কর্মকর্তা ধরে এনেছেন তিনিও এখন ফাঁড়িতে নেই। সকাল ৯টার দিকে আসবেন।’ তার কথামতো হাবিবুল্লাহ সকাল ৯টার সময় আবার ফাঁড়িতে যান। এ সময় ফাঁড়িতে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তখন হাবিবুল্লাহ দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে মর্গে রায়হানের লাশ পান। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়।