র্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 16
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাব বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে এলেও সরকার সে পথে না গিয়ে বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)-এর নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।”
নামের পাশাপাশি বাহিনীর পোশাকেও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,
“এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখা যাবে।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় জঙ্গিবাদের উত্থান ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যদের নিয়ে র্যাব গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর নামে শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিএনপি সরকারের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এ ধরনের ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাধিকবার র্যাব ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানালেও বাংলাদেশ সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি র্যাব গঠনের সময় ক্ষমতায় থাকা খালেদা জিয়াও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বাহিনী বিলুপ্তির দাবি তুলেছিলেন।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার র্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকে র্যাবের ‘ক্রসফায়ার’ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সবশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) এক প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কেবল সীমান্তরক্ষায় এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরকে শুধু সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতায় সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।
এসব আহ্বানে সাড়া না দিয়ে, র্যাব গঠনের ২২ বছর পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,
“সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জেনেছি। এখনো কোনো আদেশ পাইনি। আদেশ পেলে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন,
“আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। কাজে কোনো সমস্যা নেই।”













