গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ছবি: দেশকাল নিউজ
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো অন্য দুই আসামি হলেন—গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।
এর আগে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোমের মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর তাহমিনা আক্তার জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: দুদকের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না সামিট গ্রুপের কর্মকর্তারা!
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফা ভুক্তভোগীর পরিবারকে জানান, ওই বাসায় শিশুসন্তান দেখাশোনার জন্য একটি ছোট মেয়ে খোঁজা হচ্ছে। পরে ভুক্তভোগীর বাবা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সেখানে জানানো হয়, যাকে কাজে রাখা হবে, তার বিয়ে ও অন্যান্য সব খরচ তারা বহন করবেন। এতে সম্মতি দিয়ে গত বছরের জুন মাসে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ওই বাসায় কাজে দেন তার বাবা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়েটিকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তিনি। এরপর থেকে শিশুটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে বিথী জানান, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে বাবা মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখতে পান, তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে। সে স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর পাননি তিনি।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, গত ২ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে সাফিকুর রহমান, বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধর করেন এবং খুন্তি আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেন, যার ফলে সে গুরুতরভাবে আহত হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা উত্তরা পশ্চিম থানায় নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।











