ঢাকা ২ ফাল্গুন ১৪৩২, রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ২ ফাল্গুন ১৪৩২, রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
দেশ ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তারেক রহমান ৩ দিনের মধ্যে এমপিদের শপথ, পড়াবেন সিইসি সংসদ নির্বাচন ২০২৬ : নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা ভোটের ফলাফল ‘পাল্টে দেওয়ার’ অভিযোগ ১১ দলীয় ঐক্যের আলোচিত মুখ মান্না, আমজনতার তারেকসহ জামানত হারালেন যারা নির্বাচনে কোন দল কত আসন পেল? রংপুরে ‘লাঙলের জানাজা’ ! ‘আমার তারেক ভাই’ সম্বোধন করে তারেক রহমানকে মমতার শুভেচ্ছা জামানত হারালেন নাগরিক ঐক্যের মান্না গোপালগঞ্জের তিন আসনেই বিএনপি,  ‘না’ ভোট পড়েছে ‘হ্যাঁ’য়ের তিন গুণ ২০ বছর পর ফিরছে বিএনপি, নির্বাসন থেকে ক্ষমতার চূড়ায় তারেক রহমান নির্বাচন ছিল ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন‘ ঢাকা-৮: মির্জা আব্বাস হারালেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সিলেটের ৬ আসনে গড় ভোট ৪৮.১৫ শতাংশ সিলেট-১: বড় ব্যবধানে বিএনপির মুক্তাদীরের জয় ঢাকা-১৩ : জিতলেন ববি হাজ্জাজ,হারলেন মামুনুল হক সিলেট-২ আসনে ইলিয়াসপত্নী লুনার বড় ব্যবধানে জয় সিলেট-৬ আসনে বিএনপির এমরান বিজয়ী বিজয়ের হাসি রুমিন ফারহানার সিলেটে বিএনপি ১৮ , খেলাফত ১, জামায়াত ০ ১৭ আসনে বিজয়ের দাবি জামায়াতের, রাত সাড়ে ৯টার তথ্য ৫ আসনে এনসিপি জয়ী, বহু জায়গায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: আসিফ মাহমুদ বিজয়ী হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান : কিশোরগঞ্জ-৪ বড় ভাইকে হারিয়ে জিতলেন ছোট ভাই : কুড়িগ্রাম-৪ ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলছিলেন ৫ তরুণ, ধরা পড়লেন সিসিটিভিতে সংঘাতহীন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম কেন? আজকে নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন: ড. ইউনূস ভোটকেন্দ্রে মৃত্যুর কোলে অভিনেতা, পোলিং অফিসার জামায়াতের সঙ্গে উত্তেজনা, খুলনা বিএনপি নেতার মৃত্যু

পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন

ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও সীমান্ত নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভিন্ন পথে হাঁটল স্পেন সরকার। অন্তত পাঁচ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) একটি রয়্যাল ডিক্রিবলের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই সরকার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষমতা পাবে। স্যোশালিস্ট নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায়, এই উদ্যোগটি বিরোধী দলগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

স্পেনের অভিবাসনমন্ত্রী এলমা সাইজ মঙ্গলবারের দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা মানবাধিকার, সংহতি ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি অভিবাসন মডেল গড়ে তুলছি, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সংহতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

গত দুই দশকের মধ্যে স্পেনে এত বড় পরিসরে অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ এটিই প্রথম।

কারা পাবেন এই সুবিধা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং যারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তারা বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীদের প্রাথমিকভাবে এক বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে নবায়নযোগ্য। আগামী এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ করা হবে।

এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীরা দেশটির যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো খাতে কাজ করার সুযোগ পাবেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিবাসীদের ‘সম্পদ, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইউরোপের অন্যান্য বড় অর্থনীতির দেশগুলো যখন অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করছে, তখন স্পেনের এই বিপরীতমুখী সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির অর্থনীতিতে অভিবাসীদের উল্লেখযোগ্য অবদানকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, অভিবাসনের কারণেই স্পেনের অর্থনৈতিক সাফল্য ত্বরান্বিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের তুলনায় স্পেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্পেনে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে—৯.৯৩ শতাংশে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে, যাদের বেশিরভাগই ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা।

থিংক-ট্যাঙ্ক ‘ফুনকাস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে স্পেনে নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজারে।

বর্তমানে স্পেনে নথিপত্রহীনভাবে বসবাসকারীদের অধিকাংশই কলম্বিয়া, পেরু ও হন্ডুরাস থেকে আসা বলে ধারণা করা হয়। তবে সরকার ঘোষিত এই বৈধকরণ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো।

রক্ষণশীল পিপলস পার্টির (পিপি) নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইজো বলেন, এই গণ-বৈধতা কার্যক্রম মূলত ‘অবৈধ অভিবাসনকে পুরস্কৃত করার’ শামিল এবং এতে জনসেবামূলক খাতগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে, অতি-ডানপন্থি দল ‘ভক্স’ এই উদ্যোগকে জাতীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বামপন্থি দলগুলোর মতে, অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করাই বর্ণবাদ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

২০ বছর পর নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক লাখ মানুষ ছায়া অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ফি প্রদান করে মূল অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ পাবে।