ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইছেন বিএনপির পক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি কতটা? নির্বাচনী প্রচারে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী, বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু ‘একটা দল ভোট দখলের চেষ্টা করছে’, সতর্ক থাকতে বললেন তারেক তারেক রহমানের জনসভায় শাবিপ্রবি ভিসি–প্রোভিসির উপস্থিতি, ছবি–ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক সিলেটে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তারেক : ‘তাদের আমরা স্বাধীনতার সময় দেখেছি’ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ : ভারত না যেতে অনড় বাংলাদেশ সিলেটে বৃহস্পতিবার কোথায় কোন কর্মসূচি তারেক রহমানের সিলেট ৬ : মনোনয়ন বঞ্চিতদের এক মঞ্চে নিয়ে এলেন এমরান চৌধুরী

নৌকায় সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে স্পেনের ৪ বাংলাদেশীর মৃত্যু

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১০:১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯
  • / 1676
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দালালের মাধ্যমে স্পেনে প্রবেশ করতে গিয়ে ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মরক্কো থেকে ২৬ নভেম্বর প্লাস্টিকের নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের মেলেইয়াতে প্রবেশের চেষ্টা করলে মাঝ সমুদ্রে তাদের সলিল সমাধি হয়।

নৌকাডুবিতে তাদের দেহ ম্যালিইয়া দ্বীপে ভেসে উঠলে, স্থানীয় পুলিশ দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে ম্যালিনা হাসপাতালে নিলে রাতেই সেখানে তারা মারা যান বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশ গুরুতর আহত আরও ৫৯ জনকে দ্বীপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

নৌকা ডুবিতে এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে, আহত এবং নিখোঁজ থাকা কারোরই নাম ঠিকানা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি ম্যানিলা কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি সিলেটে বলে জানা গেছে।

ফাইল ছবি

স্পেনের ম্যানিলা ক্যাম্প থেকে সিলেটের অনুরুদ্র বিশ্বাস অনিদ্র ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহতদের একজন ১৮ বছরের তরুণ। তার নাম আবু আশরাফ।২৯ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে তার পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহত আশরাফ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের পেছিখুমরা গ্রামের আশিক মিয়ার পুত্র। এছাড়া একই নৌকায় থাকা অন্য তিনজন বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন।

তাদের একজন হলেন, জাকির হোসেন, পিতা আপ্তাব উদ্দিন, গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার সুড়িকান্দি গ্রাম এবং অপর নিখোঁজ তরুণের নাম জালাল উদ্দীন, তার গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার পকুয়া গ্রামে,অন্যজন হলেন শাহিন সিলেটের দ:সুরমা।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর দুই মাস আগে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশে এক দালালের মাধ্যমে প্রথমে তারা আলজেরিয়ায় যান। সেখান থেকে ২০ দিন আগে আফ্রিকার মরক্কোয় যান। পরে কয়েক দফায় দালালেরা তাদেরকে স্পেনে পাঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সর্বশেষ সোমবার দালালদের সহায়তায় মরক্কোর নাদুর এলাকা থেকে নৌকায় সাগরপথে আশরাফসহ ৭৮ জন তরুণ স্পেনের ম্যানিলার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

ফাইল ছবি:

সমুদ্র পাড়ি দেয়ার আগে রোববার মৃতদের একজন, আশরাফ মোবাইলেরঅ্যাপ ইমুর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। তখন আশরাফ পরিবারকে জানান, ৭৮ জনের একটি দল নৌকায় করে স্পেনের ম্যালিয়ায় উদ্দেশ্যে যাবে। আশরাফ পরিবারকে এটাও জানান যে, দালালরা বলেছে- নৌকায় বেশি দূরত্ব যেতে হবে না, নদী পার হওয়ার দূরত্ব সমান পথ পাড়ি দিতে হবে। যদিও বাস্তবে সেটা ছিল ভূমধ্যসাগরের জিব্রাল্টার চ্যানেল পাড়ি দেয়ার সমান।

এরপর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা আশরাফের খালাতো ভাই স্বজনদের জানান, আশরাফকে বহনকারী নৌকাটি সমুদ্রে ডুবে গেছে এবং আশরাফসহ ৪ বাংলাদেশি মারা গেছে।

একাধিক সূত্র ও নিহতদের পরিবারসূত্রে জানা যায়, ভাগ্য বদলের জন্য ইউরোপে যাওয়ার আশায় দালাল চক্রের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করে এবং টাকার বড় অংশ শোধও করে দেয়। এদের মধ্যে নিহত আশরাফ প্রায় এক বছর দুই মাস আগে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশেবাড়ি ত্যাগ করে। স্পেন প্রবাসী মেহরাজ হাসান, যিনি এক মাস পূর্বে মেহরাজ নিজেই দালালের মাধ্যমে মরক্কো হয়ে স্পেনে সাগর পথে প্রবেশ করেন।

তিনি জানান, এই মানব পাচার গ্রুপে তিনিও ছিলেন এবং সৌভাগ্যবশত একমাস পূর্বে তিনি জীবিত স্পেনে প্রবেশ করতে পেরেছেন। তিনি জানান, নৌকা ডুবিতে বেশির ভাগই বড়লেখা বিয়ানীবাজারের। তিনি আরও বলেন- দালালরা তাদেরকে প্রথমে বিমান যোগে মরক্কো থেকে স্পেন পাঠানোর কথা বলে নিয়ে আসে। তারপর নৌকা দিয়ে সাগর পথে পাড়ি দিতে বলে, সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রতিবাদ করলেও দালালরা তাদেরকে বলে এটা সাগর নয় ছোট একটি খাল। এটি পাড়ি দিলেই স্পেন।

মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে আসা মেহরাজ হাসান বলেন, আমাদেরকে এভাবেই ব্ল্যাকমেইল করে দালাল চক্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মো: ছালাহ উদ্দিন

স্পেন ব্যুরো
ট্যাগস :

নৌকায় সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে স্পেনের ৪ বাংলাদেশীর মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯

দালালের মাধ্যমে স্পেনে প্রবেশ করতে গিয়ে ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মরক্কো থেকে ২৬ নভেম্বর প্লাস্টিকের নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের মেলেইয়াতে প্রবেশের চেষ্টা করলে মাঝ সমুদ্রে তাদের সলিল সমাধি হয়।

নৌকাডুবিতে তাদের দেহ ম্যালিইয়া দ্বীপে ভেসে উঠলে, স্থানীয় পুলিশ দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে ম্যালিনা হাসপাতালে নিলে রাতেই সেখানে তারা মারা যান বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশ গুরুতর আহত আরও ৫৯ জনকে দ্বীপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

নৌকা ডুবিতে এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে, আহত এবং নিখোঁজ থাকা কারোরই নাম ঠিকানা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি ম্যানিলা কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি সিলেটে বলে জানা গেছে।

ফাইল ছবি

স্পেনের ম্যানিলা ক্যাম্প থেকে সিলেটের অনুরুদ্র বিশ্বাস অনিদ্র ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহতদের একজন ১৮ বছরের তরুণ। তার নাম আবু আশরাফ।২৯ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে তার পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহত আশরাফ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের পেছিখুমরা গ্রামের আশিক মিয়ার পুত্র। এছাড়া একই নৌকায় থাকা অন্য তিনজন বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন।

তাদের একজন হলেন, জাকির হোসেন, পিতা আপ্তাব উদ্দিন, গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার সুড়িকান্দি গ্রাম এবং অপর নিখোঁজ তরুণের নাম জালাল উদ্দীন, তার গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার পকুয়া গ্রামে,অন্যজন হলেন শাহিন সিলেটের দ:সুরমা।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর দুই মাস আগে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশে এক দালালের মাধ্যমে প্রথমে তারা আলজেরিয়ায় যান। সেখান থেকে ২০ দিন আগে আফ্রিকার মরক্কোয় যান। পরে কয়েক দফায় দালালেরা তাদেরকে স্পেনে পাঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সর্বশেষ সোমবার দালালদের সহায়তায় মরক্কোর নাদুর এলাকা থেকে নৌকায় সাগরপথে আশরাফসহ ৭৮ জন তরুণ স্পেনের ম্যানিলার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

ফাইল ছবি:

সমুদ্র পাড়ি দেয়ার আগে রোববার মৃতদের একজন, আশরাফ মোবাইলেরঅ্যাপ ইমুর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। তখন আশরাফ পরিবারকে জানান, ৭৮ জনের একটি দল নৌকায় করে স্পেনের ম্যালিয়ায় উদ্দেশ্যে যাবে। আশরাফ পরিবারকে এটাও জানান যে, দালালরা বলেছে- নৌকায় বেশি দূরত্ব যেতে হবে না, নদী পার হওয়ার দূরত্ব সমান পথ পাড়ি দিতে হবে। যদিও বাস্তবে সেটা ছিল ভূমধ্যসাগরের জিব্রাল্টার চ্যানেল পাড়ি দেয়ার সমান।

এরপর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা আশরাফের খালাতো ভাই স্বজনদের জানান, আশরাফকে বহনকারী নৌকাটি সমুদ্রে ডুবে গেছে এবং আশরাফসহ ৪ বাংলাদেশি মারা গেছে।

একাধিক সূত্র ও নিহতদের পরিবারসূত্রে জানা যায়, ভাগ্য বদলের জন্য ইউরোপে যাওয়ার আশায় দালাল চক্রের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করে এবং টাকার বড় অংশ শোধও করে দেয়। এদের মধ্যে নিহত আশরাফ প্রায় এক বছর দুই মাস আগে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশেবাড়ি ত্যাগ করে। স্পেন প্রবাসী মেহরাজ হাসান, যিনি এক মাস পূর্বে মেহরাজ নিজেই দালালের মাধ্যমে মরক্কো হয়ে স্পেনে সাগর পথে প্রবেশ করেন।

তিনি জানান, এই মানব পাচার গ্রুপে তিনিও ছিলেন এবং সৌভাগ্যবশত একমাস পূর্বে তিনি জীবিত স্পেনে প্রবেশ করতে পেরেছেন। তিনি জানান, নৌকা ডুবিতে বেশির ভাগই বড়লেখা বিয়ানীবাজারের। তিনি আরও বলেন- দালালরা তাদেরকে প্রথমে বিমান যোগে মরক্কো থেকে স্পেন পাঠানোর কথা বলে নিয়ে আসে। তারপর নৌকা দিয়ে সাগর পথে পাড়ি দিতে বলে, সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রতিবাদ করলেও দালালরা তাদেরকে বলে এটা সাগর নয় ছোট একটি খাল। এটি পাড়ি দিলেই স্পেন।

মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে আসা মেহরাজ হাসান বলেন, আমাদেরকে এভাবেই ব্ল্যাকমেইল করে দালাল চক্র।