খালেদা জিয়া ‘বিমান ভ্রমণে সক্ষম নন’, মত মেডিকেল বোর্ডের
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 204
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে ‘বিমান ভ্রমণের মতো শারীরিকভাবে সক্ষম নন’। হাসপাতালটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে এ তথ্য। গত ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের বাইরে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “ওই সময়ে (শুক্রবার) এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি ত্রুটির কারণে আসতে পারেনি—এটি যেমন সত্য, তেমনই ওই মুহূর্তে জরুরিভাবে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে উনার ফ্লাই করা সঠিক হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এ কারণে উনাকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তার শারীরিক অবস্থাই বলে দেবে, কখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া যাবে কিংবা নেওয়া উচিত হবে।”
গত বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নেওয়া হবে। কাতারের আমির তার জন্য রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছেন বলেও জানানো হয়। শুক্রবার প্রথম প্রহরে বা ভোরে যাত্রা শুরুর কথা ছিল।
তবে রাতেই জানানো হয়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। পরে জার্মানি থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।
এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়ার বড় পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, যিনি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যও।
জাহিদ হোসেন বলেন, “বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। যখনই মেডিকেল বোর্ড অনুভব করবে যে উনাকে শারীরিকভাবে নিরাপদে ট্রান্সফার করা সম্ভব, তখনই নেওয়া হবে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার বিমান যাত্রায় আকাশে মানুষের শারীরিক যে পরিবর্তন হয়, সেটির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো একজন অসুস্থ মানুষের পক্ষে সবসময় সম্ভব নয়।”
অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
বিএনপি নেতা জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সবসময় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রস্তুত থাকলেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, সেফটি ও সিকিউরিটি—অর্থাৎ চিকিৎসাগত দিকটাই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাচ্ছে। আমাদের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন থেকে সম্মানিত চিকিৎসকরা যৌথভাবে উনার ফিজিক্যাল কন্ডিশনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়া কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যুক্তরাজ্যে যান এবং ৬ মে একই অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফেরেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, “যেহেতু উনার স্বাস্থ্যই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব বিষয়টি নজরদারি করছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। দলও সেই অনুযায়ী সহায়তা করছে।”
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বিগত ৬ বছর ধরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“বোর্ডের সদস্যরা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিষয়টি পরিচালনা করছেন।”
‘গুজবে কান দেবেন না’
খালেদা জিয়াকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা গুজব ছড়ালে সেগুলোতে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেন জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “আমি সোশ্যাল মিডিয়া দেখি না, কিন্তু অনেক সময় গুজব শোনা যায়, অনেকে বিভিন্ন তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব— দেশনেত্রীর প্রতি আপনাদের শ্রদ্ধা থাকলে দয়া করে ফ্যাক্ট ছাড়া কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে।”
তিনি আরও বলেন, “এর চেয়েও প্রতিকূল অবস্থা থেকে আল্লাহ উনাকে সুস্থ করেছেন আপনাদের দোয়ায়। আমরা মেডিকেল বোর্ডও আশাবাদী— এবারও আপনাদের দোয়া এবং আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
‘দুঃখ প্রকাশ’
হাসপাতালের অন্যান্য রোগী বা স্বজনরা কোনোভাবে অসুবিধার মুখে পড়লে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “আমরা আবেগপ্রবণ। আমাদের সহকর্মীদের জন্য কেউ কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকলে তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের সহযোগিতা চাই— আপনাদের আন্তরিক সহায়তা ছাড়া উনার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”



















