ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

উত্তরায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড: দুই পরিবারের ৬জনের প্রাণহানি

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 91
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয় জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার সংবাদ পান তারা। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা দুই পরিবারের সদস্য এবং তারা ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার দুটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান। তারা একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড় এলাকায়। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী সুবর্ণা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বির মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রিশানের মরদেহ ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত তিনজনের শরীরে কোনো দগ্ধ চিহ্ন ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

অন্য পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।

হারিছ ও তার ছেলে রাহাবের মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোদেলা আক্তারের মরদেহ লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে রাখা হয়েছে।

ঘটনার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দোতলায় রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাস সংযোগ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আমাদের ধারণা।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

উত্তরায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড: দুই পরিবারের ৬জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় : ০৩:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয় জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার সংবাদ পান তারা। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা দুই পরিবারের সদস্য এবং তারা ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার দুটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান। তারা একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড় এলাকায়। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী সুবর্ণা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বির মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রিশানের মরদেহ ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, নিহত তিনজনের শরীরে কোনো দগ্ধ চিহ্ন ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

অন্য পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।

হারিছ ও তার ছেলে রাহাবের মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোদেলা আক্তারের মরদেহ লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে রাখা হয়েছে।

ঘটনার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দোতলায় রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাস সংযোগ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আমাদের ধারণা।”