অদ্ভুত দেশপ্রেম ও খাঁটি ব্যক্তিগত স্বার্থ
- আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 1064
বিগত প্রায় এক দশকে লন্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশি কিছু প্রগতিশীল তকমা লাগানো তারুণ্যকে খুব সিরিয়াস মানবাধিকার কর্মী ও লেখক হয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকতে দেখেছে কমিউনিটির সচেতন মহল। বিলেতে বাংলাদেশিদের সাফল্য, সমস্যা কিংবা সম্ভাবনা তাদের লেখার বিষয় ছিল না। তারা শুধুমাত্র কনসার্ন ছিলেন বাংলাদেশের ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে। সরকারের দুর্নীতি, প্রশাসনে আমলাতন্ত্রের অবাধ বিচরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে প্রকাশ্য দুর্নীতি, সিন্ডিকেট বাণিজ্য এমনকি প্রশাসনে পুকুর চুরি থেকে সাগর চুরি প্রবাদের সংস্করণেও তাদের কলম চলেনি। ওই একটি বিষয় অর্থাৎ ধর্মীয় উসকানিমূলক লেখা ছাড়া। তাদের ভাষায় বাংলাদেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জঙ্গি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জঙ্গি, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান মানেই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আফগানিস্তান হয়ে গেছে ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগে এসব নিয়ে রীতিমতো সোচ্চার ক্যাম্পেইন করেছেন কেউ কেউ। অথচ এরাই প্রগতিশীল দলের ছায়াতলে ছিলেন, আছেনও। যদিও আওয়ামী লীগের অনেকে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের দ্বিমুখী আচরণ বিষয়ে কথাও বলেছেন শুনেছি। কিন্তু দমানো যায়নি।
ব্রিটেনে ডাটা প্রটেকশন আইনের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহারের কারণে আইন বিষয়ে যারা কাজ করেন অথবা যাদের জানাশোনা আছে কিন্তু এসব বলতে পারেন না প্রকাশ্যে। এসব দূরভিসন্ধি চেতনাধারীরা মূলত বিশেষ স্পর্শকাতর একটি ইস্যুকে সামনে নিয়ে অর্থাৎ ব্রিটেনে এসাইলাম আবেদন করে স্থায়ী হওয়ার চিন্তা নিয়ে করেছেন। এবং এভাবে তারা তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ সফলভাবে করেছেন। দেশকে উলঙ্গ করে, মিথ্যার বেসাতি করে তাদের অনেকে দ্রুত ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি ইস্ট লন্ডনে নাকি অনেক পুরোনো ও বহুল উচ্চারিত। মজার কথা হলো এসবে এমন অনেকে সহায়তা করেছেন কিন্তু স্থায়ী হওয়ার পর তাদের সাথে ঐসব প্রগতিবাদীদের সুসম্পর্ক থাকেনি বিধায় তাদের মুখ থেকেই নাকি তলের বিড়াল বের হয়েছে সবচেয়ে বেশি!
এইসব অতি দেশপ্রেমিকরা মাতৃভূমিতে যাওয়া তাদের জন্য অনিরাপদ দেখিয়ে স্থায়ী হলেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে গিয়ে স্বদেশি মেয়ে বিয়ে ও হানিমুন করেছেন। অনেকে বেড়া ডিঙিয়ে দেশে স্বজনদের সাথে থেকে এসে তা বন্ধুদের সাথে গর্ব করে শেয়ার করার গল্পও নাকি আছে অনেক।
তো এই দেশপ্রেম বিলি করে নিজের আখের গোছানোরাই বলতে গেলে সামাজিক যোগাযোগে কোটাবিরোধী আন্দোলন পূর্ব সময় পর্যন্ত সবর ছিল। কোটা আন্দোলন ইস্যুর এই দুঃসময়ে ব্রিটেনের এইসব লেখক, মানবাধিকার কর্মীদের নিখোঁজের বিষয়টি দলের ত্যাগী নেতৃবৃন্দের কাছেও নাকি এখন স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।
আনোয়ারুল ইসলাম অভি, কবি, সাংবাদিক
লন্ডন, দুই আগস্ট দুই হাজার চব্বিশ























